হ্যালো বন্ধুরা! কেমন আছেন সবাই। আশা করি সবাই ভাল আছেন। আজকে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করবো ১০লাখ টাকার মধ্যে সবচেয়ে সেরা একটি ব্যবসার আইডিয়া নিয়ে। ১০ লাখ টাকা দিয়ে আপনারা যারা গ্রামে বসবাস করেন তারা এই ব্যবসাটি করতে পারবেন। তো চলুন জেনে নেওয়া যাক ১০ লাখ টাকার ব্যবসা অথবা ১০ লাখ টাকার মধ্যে গ্রামে সবচেয়ে সেরা ব্যবসার আইডিয়া। এই ব্যবসার মাধ্যমে মাসে লাখ টাকা আয় করা সহজ। যদি ও এই ব্যবসাটি ১০ লাখ টাকার ব্যবসা তাই কম পুজির ব্যবসা বলা যাবে না । তবে এই ব্যবসাটিকে বর্তমানে সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসা বলা যায়।
ভ্যান ভাড়া দিয়ে প্রতি মাসে ১ লাখ টাকা আয় করতে পারবেন।
আমরা যারা গ্রামে থাকি তারা হয় প্রতিদিনই দেখি কত শত ভ্যান আর বর্তমানে গ্রামে কিন্তু ভ্যানের বিকল্প গাড়ি কমই রয়েছে। আপনারা চাইলে ১০ লাখ টাকার ভিতরে ভ্যানের ভ্যান কিনে ভাড়া দিয়ে ব্যবসা করতে পারেন। ভ্যানের ব্যবসায় আপনি ১০ লাখ টাকা দিয়ে এক বছরের ভিতর ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা ইনকাম করতে পারবেন। আর আপনার চালান বা মূলধন প্রথম ৬ মাসের মধ্যে ওঠে আসবে। তারপরে আপনার ভ্যান গ্যারেজ তো রয়েই যাবে। গ্যারেজে আপনার ভ্যান মেরামতের পাশাপাশি অন্যান্য ভ্যান ও মেরামত করবেন। এই বাড়তি টাকা দিয়ে ভ্যান মেকারের বেতন দিয়ে ও আপনার অতিরিক্ত লাভ হবে।
তো চলুন আপনার কোথায় কি করতে হবে।
আপনার কী কী করতে হবে?
আপনার ১০ লাখ টাকা খরচ হবে।
নিজের পরিশ্রম করতে হবে।
নিজের জমি দরকার হবে।
সবসময় সঠিক লোকদের ভ্যান ভাড়া দিবেন।
কত টাকা খরচ হবে?
তিন লাখ টাকার মধ্যে নিজের জমি থাকলে তো টাকা বেঁচে যাবে বা থাকলে জমি ভাড়া নিবেন, ভ্যান রাখার জন্য একটা গ্যারেজ বানাতে হবে। একজন ভ্যান মেকার রাখবেন। বিদ্যুৎতের দরকার হবে। এসবের পিছনে ৩ লাখের মত খরচ করবেন। বাকি সাত লাখ টাকা দিয়ে প্রায় ২০ টা ভ্যান কিনবেন নয়তো বানাবেন।
কত টাকা আয় ব্যয় হবে তার একটি হিসাব আপনাকে দেওয়া যাক।
প্রথমে ১০ লাখ টাকার ভিতরে আপনি সাত লাখ টাকা দিয়ে পাইকারী ধরে ২৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা দিয়ে মোটর চালিত ভ্যান কিনবেন ২০ টি। আর বাকি তিন লাখ টাকা দিয়ে আপনি ভ্যানের জন্য একটি গ্যারেজ এবং বিভিন্ন খুচরা যন্ত্রাংশ কিনে রাখবেন। যেগুলো মাঝে মাঝে আপনার দরকার হবে। এইতো গেল আপনার খরচ।
তো এখন প্রতিদিন আপনি ২০ টি ভ্যান ভাড়া দিবেন ২০ টাকায করে। তাহলে প্রতিদিন ২০টি ভ্যান থেকে আপনার ২০০ টাকা করে ভাড়া নিলে প্রতিদিন ২০ টি ভ্যান থেকে ৪,০০০ টাকা ভাড়া ওঠবে। এভাবে আপনার এক মাসের ৩০ দিনে ৪ হাজার টাকা করে ১,২০,০০০ টাকা ভাড়া ওঠবে। পরবর্তী ৬ মাসে ৭,২০,০০০ টাকা ভাড়া ওঠবে। এভাবে ছয় মাসের মধ্যেই আপনার মূলধনের টাকা উঠেও লাভ উঠে আসবে। তারপরে আপনার যেই টাকা ভাড়া ওঠবে সে টাকা শুধু আপনার লাভ আর লাভ।
নিম্নে গানিতিক ভাবে বিশ্লেষণ করা হলো;
২০টি ভ্যান অথবা রিক্সা দাম পড়বে ৭ লাখ টাকা।
৩ লাখ দিয়ে একটা গ্যারেজ ও খুচরা যন্ত্রাংশ বানাতে হবে।
ভাড়া প্রতিদিন ২০০ টাকা।
২০০×২০= ৪,০০০ টাকা
মাসে ৪,০০০×৩০= ১,২০,০০০ টাকা
প্রথম ৬ মাসে ১,২০,০০০×৬= ৭,২০,০০০ টাকা
১ বছরে ১২×১,২০,০০০= ১৪,৪০,০০০ টাকা
তারপরে ও কয়েকটি সহজ প্রশ্নের উত্তর।
প্রশ্নঃ প্রতিদিন কত টাকা আয় হবে?
উত্তরঃ প্রতিদিন ৩,০০০ থেকে ৪,০০০ হাজার টাকা পযন্ত আয় হবে।
প্রশ্নঃ প্রতি মাসে কত টাকা আয় হবে?
উত্তরঃ প্রতিমাসে ১,০০,০০০ টাকা থেকে ১,২০,০০০ টাকা পযন্ত আয় হবে।
প্রশ্নঃ প্রতি ছয় মাস অন্তর অন্তর কত টাকা লাভ হবে?
উত্তরঃ প্রতি ৬ মাসে প্রায় ৬,০০,০০০ থেকে ৭,২০,০০০ টাকা আয় হবে।
প্রশ্নঃ প্রতি বছর কত টাকা লাভ হবে?
উত্তরঃ প্রতি বছর ১৩,০০,০০০ থেকে ১৪,৪০,০০০ টাকা আয় হবে।
তো যারা যারা গ্রামে বসবাস করেন তাদের জন্য ১০ লাখ টাকার মধ্যে সবচেয়ে সেরা বিজনেজ আইডিয়ার মধ্যে ভ্যান ভাড়ায় হল উত্তম ও সেরা। আপনাকে কোন সুদ খেতে হবে না কোন অসৎ ভাবে না একদম সম্পূর্ণ হালাল ভাবে আপনি মাত্র ১০ লাখ টাকা দিয়ে এক বছরের মধ্যে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা ইনকাম করতে পারবেন।
১০ লাখ টাকার মধ্যে সেরা ব্যবসা ভ্যান ভাড়ার ব্যবসাটি কিন্তু কোন রিক্স ছাড়াই আপনি করতে পারবেন। আর হ্যাঁ অবশ্যই মনে রাখবেন এই ব্যবসাটি শুধু তাদের জন্য যারা গ্রামে বসবাস করেন আর যারা ১০ লক্ষ টাকার মধ্যে গ্রামে যে কোন একটা ব্যবসা দিতে চাচ্ছেন।
তো বন্ধুরা আজকের মতো এই পর্যন্তই ছিল আমাদের আয়োজন। দেখা হবে আবার নতুন কোন আর্টিকেলে, ততক্ষণ পর্যন্ত আপনারা সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন। আর কোনো কিছু জানতে চাইলে অথবা কোন কিছু বুঝতে অসুবিধা হলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাতে পারেন। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করব আপনার সমস্যাটি সমাধান করে দেওয়ার জন্য।
এত কষ্ট করে পুরো পোস্টটি পড়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।